বিতর্ক

(পূর্বে প্রকাশের পর)
আরও এরশাদ ফরমান-‘যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী, তাদেরকে ইহজীবন ও পরজীবনে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন। (সুরা ইবরাহীম : ২৭)
এখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শুন :
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বল, সফলকাম হবে।
এ হাদীস শরীফ দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, কামিয়াবী ও সফলতা উপলব্ধি ও জানার মধ্যে নয় বরং এতে বলা বা স্বীকৃতিও সম্পৃক্ত রয়েছে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও এরশাদ ফরমান-‘যে ব্যক্তি মুখে বলল, এবং সে ব্যক্তি হৃদয়েও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে, তবে সে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। এখানে তিনি বলেননি যে, যে ব্যক্তি অন্তরে আল্লাহর পরিচিতি উপলব্ধি করল, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে বলেছেন, যে ব্যক্তি মুখে কালিমা বলবে।
যদি হৃদয়ের উপলব্ধি যথেষ্ট হতো এবং মুখে স্বীকৃতির কোনো প্রয়োজন না হতো, তবে মুখে আল্লাহর অস্বীকৃতি ও অস্বীকারকারী ও আল্লাহর পরিচিত উপলব্ধি করে বা জেনে মু’মিন হয়ে যেত। এমতাবস্থায় ইবলিস শয়তানেরও মু’মিন হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না। কেননা মহান আল্লাহ পাকের পরিচিতি ও উপলব্ধি তার মধ্যে ছিল। সে সম্যক অবগত ছিল মহান আল্লাহ পাক তার সৃষ্টিকর্তা, জীবন দানকারী এবং তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতকারী। যেমন ইবলিস বলেছিল : ‘হে আমার পরওয়ারদেগার! আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন। (সুরা হিজর : ৩৯)
তারপর বলেছিল : এবং আমাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। (সুরা হিজর : ৩৬)
আরও বলেছিল, আপনি আমাকে অগ্নি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে মাটি হতে। (সুরা দাদ : ৭৬)
যদি শুধু মহান আল্লাহ পাকের পরিচিতি জানা ও উপলব্ধিই ঈমান হত, তবে কাফির সম্প্রদায়ের পরিচিতি জানার পরও মুখে অস্বীকৃতি সত্ত্বেও তারা মু’মিন হত। অথচ মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেছেন-‘বিশ্বাস করা সত্ত্বেও তারা অস্বীকার করেছিল। (সুরা নামল : ১৪)
এ আয়াতে মহান আল্লাহ পাকের একত্ববাদে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও তাদেরকে মু’মিন বলা হল না। কেননা তারা মুখে অস্বীকার করেছিল।
মহান আল্লাহ পাক আরও এরশাদ ফরমান-‘তারা মহান আল্লাহ পাকের নিয়মতরাজী সম্পর্কে জেনেও অস্বীকার করেছিল। আর তাদের অধিকাংশ মোটেই মানত না।’ (সুরা নাহল : ৮৩)
মহান আল্লাহপাক আরও এরশাদ ফরমান-‘বল! কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে জীবিকা সরবরাহ করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, কে জীবিতকে মৃত হতে নির্গত করেন এবং কে মৃতকে জীবিত হতে নির্গত করেন এবং কে সকল বিষয় নিয়ন্ত্রিত করেন? তখন তারা বলবে, আল্লাহ। বল! তবুও কী তোমরা সাবধান হবে না? তিনিই আল্লাহ তোমাদের সত্য প্রতিপালক। (সুরা ইউনুস : ৩১-৩২)
উপর্যুক্ত আয়াত সমূহের মর্মবাণীর উপর চিন্তা করলে স্পষ্ট বুঝা যাবে যে, চিন্তার ও উপলব্ধি থাকা সত্ত্বেও তাদের ‘জানাটা’ কী অকাট্যভাবে নিষ্ফল ও বেকার?
মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন-‘তারা আপনাকে এমনভাবে চিনে যেমনি তাদের সন্তানদের চিনে। (সুরা বাকারা : ১৪৬)
এ আয়াত দ্বারাও জানা যাচ্ছে, অস্বীকারকারীদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জেনে নেওয়াই যথেষ্ঠ ছিল না, যখন তারা নবুয়ত ও রিসালাতকে মানছিল না এবং তারা এ বাস্তবতাকে গোপন করে রেখেছিল এবং অস্বীকার করে যাচ্ছিল।
যখন ইমাম আজম আবু হানীফা রহ. এসব দলীল প্রমাণ উপস্থাপন করলেন তখন জাহাম বলল, আপনি আমার হৃদয়ের রাজ্যকে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। পুনরায় আমি আপনার সান্নিধ্যে হাজির হব। কিন্তু জাহাম আর ফিরে এল না। (আলমানাকিব লিলহক্কী ১ম খণ্ড পৃ: ১৪৫-৪৮)
১২. দাহ্হাক লা-জবাব হয়ে গেল
দাহ্হাক ইবনে কায়িস খারিজী, যে ব্যক্তি উমাইয়া ফেলাফতে বিদ্রোহ করেছিল। একদা সে কুফার মসজিদে এল এবং ইমাম আবু হানীফা রহ. এর দু’হুজুম সাব্যস্তের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেল।
দাহ্হাক : হে ইমাম আজম! আপনি তওবা করুন।
ইমাম আজম রহ. : কোন্ গুণাহ থেকে তওবা করব?
দাহ্হাক : ‘দু’ হুজুম সাব্যস্ত থেকে।
ইমাম আজম রহ. : তুমি কি আমার সঙ্গে বিতর্ক করবে অথবা আমাকে হত্যা করবে?
দাহ্হাক : বিতর্ক করব।
ইমাম আজম রহ. : যদি আমরা পরস্পর মত বিরোধে পড়ি তবে আমাদের মধ্যে কে তৃতীয় ব্যক্তি হবে?
দাহ্হাক : যাকে ইচ্ছে, তৃতীয় ব্যক্তি বানিয়ে নেন।
ইমাম আজম রহ. : (দাহ্হাকের একজন সাথীকে লক্ষ্য করে বললেন) আপনি এখানে আসুন এবং আমাদের মধ্যে মতবিরোধ অবস্থায় মিমাংসা করবেন। তারপর ইমাম আজম আবু হানিফা রহ. দাহ্হাককে বললেন, এ অবস্থা কী তুমি পছন্দ করলে?
দাহ্হাক : হ্যাঁ।
ইমাম আজম রহ. : দু’ হুকুম সাব্যস্তকে তুমি নিজেই ফয়সালা করে দিলে।
দাহ্হাক : লা জবাব হয়ে চুপ হয়ে গেল। (ইমাম আজম আবু হানিফা রহ.
১৩. কাযী ইবনে শুবরুমা অসীয়ত মেনে নিলেন।
এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় ইমাম আজম আবু হানীফা রহ. সম্পর্কে তাঁর অনুপস্থিতিতে অসিয়ত করলেন। কাজী ইবনে শুবরুমার আদালতে এ বিষয়টি উত্থাপিত হল। ইমাম আজম আবু হানীফা রহ. স্বাক্ষী পেশ করলেন যে, অমুক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় আমার অনুকুলে অসীয়ত করেছেন।
কাজী ইবনে শুবরুমা : আবু হানীফা! আপনি কী শপথ করবেন যে, আপনার স্বাক্ষী সত্য বলছে?
ইমাম আজম রহ. : আমার উপর কসম আপতিত হচ্ছে না। কেননা আমি সে সময় উপস্থিত ছিলাম না।
কাজী ইবনে শুবরুমা : আপনার অনুমান কাজে আসবে না।
ইমাম আজম রহ. : ঠিক আছে, বলুন তো, কোন অন্ধ ব্যক্তির মাথা কেউ ফাটিয়ে দিল এবং এ ব্যাপারে দু’জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য প্রদান করল। তবে কী অন্ধ লোকটি শপথ করে বলবে যে, এদের স্বাক্ষ্য প্রদান সত্য? অথচ সে তো দেখেনি।
ইবনে শুবরুমা কোন জবাব দিতে না পেরে অসীয়ত মেনে নিলেন। (ইমাম আজম আবু হানীফা রহ.
১৪. হজরত কাসাঈ রহ.-এর বিচক্ষণতা
একদা মুহাম্মদ ইবনে হাসান শায়বাণী রহ. স্বীয় খালাতো ভাই হজরত কাসাঈ নাহুবিদকে জিজ্ঞেস করলেন-
মুহাম্মদ : আপনি কেন ইলমে ফিক্হ বিষয়ে মনোযোগী হন না?
কাসাঈ : ইলমে নাহু সবচেয়ে মজবুত ইলিম। সুতরাং ইলমে নাহু সব ইলিমের প্রতি রাস্তা দেখায়। তাই আমি ইলমে ফিক্হ এর প্রতি মনোযোগী না হয়ে ইলমে নাহু এর প্রতি অধিক মনোযোগী হয়েছি।
মুহাম্মদ : আমি আপনাকে একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করব। আপনি তা ইলমে নাহুর এর মাধ্যমে জবাব দিবেন।
কাসাঈ : জিজ্ঞেস করুন।
মুহাম্মদ : যে ব্যক্তি নামাজে সেজদা ভুলে যায় তার হুকুম কী?
কাসাঈ : (কিছুক্ষণ চিন্তা করে) তার জন্যে কোন সেজদা নেই।
মুহাম্মদ : নাহু শাস্ত্রের কোন অধ্যায় থেকে মাসয়ালাটির ফয়সালা দিলেন?
কাসাঈ : নাহু শাস্ত্রের একটি উসুল হচ্ছে-যে শব্দকে তাসগীর করা হয়েছে, তা দ্বিতীয়বার তাসগীরে করা হয় না। সুতরাং সেজদা সাহু নামাজে ভুলে গেল দ্বিতীয়বার সেজদা সাহু দেওয়ার বিধান নেই।
হজরত ইমাম কাসাঈ রহ.-এর প্রজ্ঞাপূর্ণ জবাব শুনে মুহম্মদ ইবনে হাসান শায়বানী রহ. বিমোহিত হয়ে গেলেন। (বাহরুররায়েক শরহে কানযুয দাক্কায়েক্ক)
১৫. ইমাম আবু হানিফা রহ. ও জনৈক ব্যক্তি একদা জনৈক ব্যক্তি সায়্যিদুনা হজরত ইমাম আজম আবু হানিফা রহ. কে নিম্নোক্ত বিষয়ে বিজ্ঞেস করল।
জনৈক ব্যক্তি : ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পথে কোন্ জিনিস সবচেয়ে সাহায্যকারী?
ইমাম আজম রহ. : একাকীত্ব গ্রহণ করা।
জনৈক ব্যক্তি : একাকীত্ব কীভাবে গ্রহণ করা যায়?
ইমাম আজম রহ. : সম্পর্কিত এবং সম্পর্কিত নয় এমন বিষয় থেকে যথাসাধ্য কম সম্পর্ক রাখা।
জনৈক ব্যক্তি : কীভাবে কম সম্পর্ক রাখা যায়?
ইমাম আজম রহ. : যে জিনিসের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ করা, অতিরিক্ত গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। (মলফুযাতে ইমাম আবু হানিফা রহ.

১৬. এক বেদুইনের প্রশ্নের উত্তর
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের আনুমানিক দশদিন পর এক বেদুইন মসজিদে নববীতে এসে উপস্থিত হল। উক্ত বেদুইন নবী করীম ……. এর ইন্তেকালের উপর আফসোস করে বলল, নবী করীম …. এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি কে? হজরত আবু বকর (রা.) হজরত আলী (রা.) এর দিকে ইশারা করে বললেন, ইনিই নবী করীম (সা.) এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। বেদুইন হজরত আলী (রা.)-এর দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করে তাঁকে সালাম দিল। হজরত আলী (রা.) বেদুইনের সালামের জবাব দান পূর্বক তার নাম ধরে ডাক দিলেন। বেদুইন যখন তার নাম হজরত আলী (রা.) এর মুখে শুনতে পেল তখন সে হয়রান হয়ে গেল। সে আলী (রা.) কে সম্বোধন করে বলল, আপনি কীভাবে আমার নাম সম্পর্কে অবগত হলেন? হজরত আলী (রা.) বললেন, আমাকে নবী করীম (সা.) তোমার নাম এবং তোমার অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। নবী করীম (সা.) তোমা রনাম ‘মদর’ বলেছেন। তুমি আরবদের সাথে সম্পর্ক রাখ। তুমি স্বীয় গোত্রকে নবী করীম (সা.)-এর আগমনের সংবাদ দিয়েছে যে, তেহামায় এমন ব্যক্তি আবির্ভূত হবেন যার চেহারা মুবারক চন্দ্র হতে উজ্জ্বল হবে। তাঁর কথাবার্তা মধু থেকে মিষ্ট হবে। তিনি খচ্ছরের উপর সওয়াব হবেন। নিজেই নিজের কাপড় এবং জুতা পরিধান করবেন। ব্যভিচার, মদপান এবং অন্যায় হত্যাকে হারাম ঘোষণা দিবেন। তিনি সর্বশেষ নবী হবেন। তিনি রামাদ্বান মাসে রোজা রাখবেন। বাইতুল্লাহ শরীফের হজ্জ করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তাঁর উপর ঈমান আন এবং তাঁকে সত্য বলে জান। অতঃপর তোমার এ সমস্ত বক্তব্য শুনে তোমার সম্প্রদায় তোমাকে জেলখানায় প্রবেশ করাবে। যখন নবী করীম (সা.) এর ইন্তেকাল হয়ে গেল তখন তোমার সম্প্রদায় বন্যার পানিতে ডুবে গেল। আর তুমি জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসলে। অতঃপর তোমার কানে অদৃশ্য থেকে আওয়াজ আসল হে মদর! নবী করীম (সা.) এর ইন্তেকাল হয়ে গেছে। সুতরাং তুমি তাঁর সাহাবায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্যে মদীনা শরীফ গমন কর এবং নবী করীম (সা.) এর জিয়ারত কর।
যখন বেদুইন ব্যক্তি হজরত আলী (রা.)-এর জবান মুবারক থেকে উপর্যুক্ত বক্তব্য শুনল তখন তার দুচোখ বেয়ে অশ্র“ প্রবাহিত হতে লাগল। সে সামনে অগ্রসর হয়ে হজরত আলী (রা.)-এর হাত মুবারকে চুম্বন দিয়ে আরজ করল আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। হজরত আলী (রা.) বললেন, ঠিক আছে, তুমি আমাকে প্রশ্ন কর। ইনশাআল্লাহ আমি তোমার প্রশ্ন গুলোর সঠিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করব।
বেদুইন : এ কেন পুরুষ যার পিতা-মাতা নেই?
হজরত আলী (রা.) : হজরত আদম (আ.)।
বেদুইন : এ কোন্ মহিলা যিনি পিতা-মাতা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন?
হজরত আলী (রা.) : হজরত হাওয়া (আ.)।
বেদুইন : এ কোন্ পুরুষ যিনি পিতা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন?
হজরত আলী (রা.) : হজরত ঈসা (আ.)।
বেদুইন : এ কোন্ কবর যে কবরটি তার অধিবাসীকে নিয়ে ভ্রমণ করেছিল?
হজরত আলী (রা.) : এ মাছ যে মাছটি তার পেটের মধ্যে তার অধিবাসী হজরত ইউনুস (আ.) কে নিয়ে তিনদিন এদিক-সেদিক ভ্রমণ করেছিল।
বেদুইন : এ কোন্ জিনিস যেটি একবার খেয়েছিল, দ্বিতীয়বার খায়নি?
হজরত আলী (রা.) : ইহা হজরত মুসা (আ.) এর লাঠি যা সাপ হয়ে ফেরআউনের সমস্ত যাদুকরদের যাদুকে খেয়ে ফেলেছিল।
বেদুইন : পৃথিবীর কোন্ স্থানটি যাতে সূর্যের আলো একবার পড়েছিল?
হজরত আলী (রা.) : ইহা হচ্ছে নীলনদের ওই স্থানটি যা হজরত মুসা (আ.) এর লাঠির আঘাতে প্রকাশ হয়েছিল।
বেদুইন : এ কোন্ পাথর যা থেকে প্রাণী বের হয়েছিল?
হজরত আলী (রা.) : ইহা ওই পাথর যা থেকে হজরত সালেহ (আ.)-এর উটনি বের হয়েছিল।
বেদুইন : উনি কোন্ মহিলা যিনি তিন ঘণ্টার মধ্যে বাচ্চা প্রসব করেছিলেন?
হজরত আলী (রা.) : হজরত মারইয়াম (আ.)
বেদুইন : কোন্ দু’বন্ধু যারা পরস্পর কখনও শত্র“ হয় না?
হজরত আলী (রা.) : শরীর ও প্রাণ।
বেদুইন : কোন্ দু’ শত্র“ যারা পরস্পর কখনও বন্ধু হয় না?
হজরত আলী (রা.) : জীবন ও মৃত্যু।
বেদুইন : জিনিস কী এবং জিনিস নয় কী?
হজরত আলী (রা.) : জিনিস মুমিন এবং জিনিস নয় কাফির।
বেদুইন : মাতৃগর্ভে প্রথম কোন্ অঙ্গটি তৈরি হয়?
হজরত আলী (রা.) : শাহাদত আঙ্গুলী।
বেদুইন : কবরের মধ্যে সর্ব প্রথম কোন্ অঙ্গটি মাটিতে পরিণত হয়?
হজরত আলী (রা.) : মাথার হাড্ডি।
হজরত আলী (রা.) বেদুইনের কত প্রশ্নগুলোর যথাযথ জবাব প্রদান করলেন, এতে বেদুইন ব্যক্তি বিমোহিত হয়ে হজরত আলী (রা.) কে চুম্বন করতে লাগল।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *