আশুরা ও মুহাররম : ফজিলত তাৎপর্য ও করণীয়

মুহাররম ও আশূরা
মুহাররম হচ্ছে চান্দ্র বর্ষের ১ম মাস। আর আশুরা হচ্ছে সেই মাসের ১০ম দিন। আশুরা অর্থই হচ্ছে ১০ম। এই মাস এবং এই দিনের ফযীলাত হাদীসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনে বর্ণিত ‘আরবাআতুন হুরুম’ তথা ৪টি সম্মানিত মাসের অন্যতম হচ্ছে মুহাররম (তাওবা ৯:৩৬)। তাছাড়া এ সময়ে বহু ঐতিহাসিক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে; আল্লাহ তাঁর কুদরাত প্রকাশের বিশেষ মওসুম হিসেবে এ সময়কে বেছে নিয়েছেন।

নূহ আ., মূসা আ. এবং হযরত মুহাম্মাদ স.-এর কৃতজ্ঞতার রোযা
হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে যে, (একদা) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদের কতিপয় এমন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যারা আশুরার দিনে রোযা রেখেছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন “এটা কিসের রোযা?” উত্তরে তারা বলল, “এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মূসা আ. ও বনী ইসরাঈলকে ডুবে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন। (অন্য বর্ণনায় আছে ফিরআউনের নির্যাতন থেকে মুক্ত করেছিলেন।) এবং ফিরআউনকে দল-বলসহ নিমজ্জিত করেছিলেন। আর এই দিনেই হযরত নূহ আ.-এর কিশতী জূদী পর্বতে স্থির হয়েছিল। ফলে এই দিনে হযরত নূহ আ. ও হযরত মূসা আ. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এই দিনে রোযা রাখি।” তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “মূসা আ.-এর অনুসরণের ব্যাপারে এবং এই দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশী হক্বদার।” অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন (আশুরার দিন) রোযা রাখেন এবং সাহাবাদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ করেন। -বুখারী, হাদিস নং ২০০৪, মুসলিম, হা. ১১৩০, মুসনাদে আহমাদ, হা. ৩৬০)

হাদিসের বিস্তারিত আলোকপাত
আশুরার সুন্নাত/নফল রোযার ইহিহাস : হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী সা. যখন হিজরত করে মদিনায় পৌঁছেন, তখন তিনি দেখলেন যে মদিনার ইহুদি সম্প্রদায় আশূরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আশুরার দিনে তোমরা রোজা রেখেছ কেন? তারা উত্তর দিল, এই দিনটি অনেক বড়। এই পবিত্র দিনে মহান আল্লাহ মুসা আ. ও বনি ইসরাইলকে ফিরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন আর ফিরআউন ও তার বাহিনীকে নীল নদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা আ. রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি। তাদের উত্তর শুনে নবী করিম সা.বললেন, হযরত মুসা আ. এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে অধিক হকদার। অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখেন এবং উম্মতকে তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করলেন। Ñবুখারি, হা. ৩৩৯৭; মুসলিম, হা. ১১৩৯
রমযানের আগে আশূরার রোযা ফরয ছিল : হাদিস থেকে জানা যায়, রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজাই উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর ফরজ ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই বিধান রহিত হয়ে তা নফলে পরিণত হয়। হাদিসটি হলো, “রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা আল্লাহর মাস মহররমের আশুরার রোজা।” Ñবায়হাকী, ৪২১০
হযরত জাবের রা. এর সূত্রে বর্ণিত আছে, ”রাসূল সা. আমাদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। এ বিষয়ে নিয়মিত তিনি আমাদের খবরাখবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরাখবরও নিতেন না। Ñমুসলিম, ১১২৮
মুহাররমের রোযা শ্রেষ্ঠতম : হাদিসে এ মাসে রোযা রাখার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলা হয়েছে, রমজানের পরে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা হল শ্রেষ্ঠতম। Ñমুসলিম, ২/৩৬৮; তিরমিযী, ১/১৫৭
আশূরার রোযা : ১০ মুহাররমের গুরুত্ব আরও বেশী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ স.-কে রমযান ও আশূরায় যেমন গুরুত্বের সাথে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময়ে তা দেখি নি। -বুখারী, ১/২১৮
আল্লাহর মাস, রোযা ও তাওবার মাস : হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’ -তিরমিযী, ১/১৫৭
গুনাহ মাফীর আশূরা : অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশূরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ -মুসলিম, ১/৩৬৭; তিরমিযী, ১/১৫৮
ইহুদী ও অমুসলিমদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ : আশূরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে, তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ। -মুসনাদে আহমদ, ১/২৪১
আশূরার আগের বা পরের দিনের রোযাটিও সুন্নাত : হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’ -মুসলিম, ১/৩৫৯
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখ। তবে এ ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করতঃ তোমরা আশুরার পূর্বে অথবা পরের একদিন সহ রোযা রাখবে।” -মুসনাদে আহমাদ, হা. ২৪১
ঐতিহাসিক নীলনদের ঘটনা : মুহাররম মাসে পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আশূরায় আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। বনী ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে রাস্তা বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে পার করে দিয়েছেন। আর একই রাস্তা দিয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে ডুবিয়ে মেরেছেন। -বুখারী, ১/৪৮১

মুহাররম ও আশূরাকেন্দ্রিক নানা কুসংস্কার
১. এ মাসে পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এদিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। বানী ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে রাস্তা বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে পার করে দিয়েছেন। আর একই রাস্তা দিয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে ডুবিয়ে মেরেছেন। -সহীহ বুখারী, ১/৪৮১
২. তবে এ দিনের গুরুত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকে নানা ভিত্তিহীন কথাও বলে থাকেন। যেমন, এদিন হযরত ইউসুফ আ. জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। হযরত ইয়াকুব আ. চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছেন। হযরত ইউনুস আ. মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছেন। হযরত ইদরীস আ.-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়। অনেকে বলে, এদিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। -আল আসারুল মারফূআ, আবদুল হাই লাখনবী, ৬৪-১০০; মা ছাবাহা বিস-সুন্নাহ ফী আয়্যামিস সানাহ, ২৫৩-২৫৭ (সূত্র : মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ, ‘আশুরা ও মুহররম : কিছু কথা’; মাসিক আল-কাউসার)
শাহাদাতে কারবালা : শোক প্রকাশের ইসলামী রূপ
এ মাসের একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা শাহাদাতে হুসাইন রা.। বলাবাহুল্য যে, উম্মতের জন্য এই শোক সহজ নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরই তো শিক্ষা-
১. ‘নিশ্চয়ই চোখ অশ্র“সজল হয়, হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা মুখে এমন কিছু উচ্চারণ করি না যা আমাদের রবের কাছে অপছন্দনীয়।’
২. অন্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই যারা (শোক প্রকাশ করতে গিয়ে) মুখ চাপরায়, কোর্তা-কাপড় ছিন্ন করে এবং জাহেলী যুগের কথাবার্তা বলে।’
অতএব শাহাদাতে হুসাইন রা.-কে কেন্দ্র করে কোন ধরনের অনৈসলামিক কর্মকা-ে লিপ্ত না হওয়া এবং সব ধরনের জাহেলী রসম-রেওয়াজ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়,
ফিরে এল আজ সেই মুহাররম মাহিনা
ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহিনা।

মুহাররমে বিয়ে-শাদী অশুভ নয়
এ মাসে যেসব অনৈসলামিক কাজকর্ম ঘটতে দেখা যায় তার মধ্যে তাজিয়া, শোকগাঁথা পাঠ, শোক পালন, মিছিল ও র‌্যালি বের করা, শোক প্রকাশার্থে শরীরকে রক্তাক্ত করা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এসব রসম-রেওয়াজের কারণে এ মাসটিকেই নাকি কিছু মুসলমানও অশুভ মনে করে এ মাসে বিয়ে-শাদী থেকেও বিরত থাকে। বলাবাহুল্য, এগুলো অনৈসলামিক ধারণা ও কুসংস্কার।

কাসীদায়ে শাহ নিআমাতুল্লাহ কাশ্মীরী ও মুহাররম মাস
৫৪৮ হিজরী সালে (১২০০ খ্রিষ্টাব্দের আগে) কাশ্মীরের জগত বিখ্যাত আল্লাহর ওলী, কবি শাহ নিআমাতুল্লাহ রহ. তাঁর আল্লাহ-প্রদত্ত আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেছিলের। বক্ষ্যমান সে কবিতার বিষয়বস্তু ছিল মাহদী আ.-এর আগমন পর্যন্ত ঘটিতব্য উপমহাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কিছু ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী। একটি পংক্তিতে বলা হয়েছে, সীমাহীন নির্যাতিত হওয়ার পরে পাঞ্জাবকেন্দ্র মুসলমানদের দখলে আসবে। এই দখলের বাহ্যিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুহাররম মাসে মুসলমানরা হাতিয়ার (অস্ত্রশস্ত্র) হাতে পাবে। কবির ভাষায়Ñ
(৪২)
মহরম মাসে হাতিয়ার হাতে পাইবে মুমিনগণ
ঝঞ্বারবেগে করিবে তাহারা পাল্টা আক্রমণ।
(৪৩)
সৃষ্টি হইবে ভারত ব্যাপিয়া প্রচণ্ড আলোড়ন
‘উসমান’ এসে নিবে জেহাদের বজ্র কঠিন পণ।
(৪৪)
‘সাহেবে কিরান-‘হাবীবুল্লাহ’ হাতে নিয়ে শমসের
খোদায়ী মদদে ঝাপিয়ে পড়িবে ময়দানে যুদ্ধের।
টীকা (সাহেবে কিরান) = এখানে মুসলমানদের সেনাপতির কথা বলা হয়েছে। শনি ও বৃহস্পতিগ্রহ অথবা শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের একই রৈখিক কোণে অবস্থানকালীন সময়ে যে যাতকের জন্ম অথবা এ সময়ে মাতৃগর্ভে যে যাতকের ভ্রুনের সঞ্চার ঘটে তাকে বলা হয় সাহেবে কিরান বা সৌভাগ্যবান। সেই মহান সেনাপতির নাম বা উপাধি হবে ‘হাবীবুল্লাহ’।
(৪৫)
কাঁপিবে মেদিনী সীমান্ত বীর গাজীদের পদভারে
ভারতের পানে আগাইবে তারা মহারণ হুঙ্কারে।
টীকা = আক্রমণকারীরা ভারত উপমহাদেশের হিন্দু দখলকৃত এলাকার বাইরে থাকবে এবং হিন্দু দখলকৃত এলাকা দখল করতে হুঙ্কার দিয়ে এগিয়ে যাবে।
(৪৬)
পঙ্গপালের মত ধেয়ে এসে এসব ‘গাজীয়ে দ্বীন’
যুদ্ধে জিতিয়া বিজয় ঝাণ্ডা করিবেন উড্ডীন।
(৪৭)
মিলে এক সাথে দক্ষিণী ফৌজ ইরানী ও আফগান
বিজয় করিয়া কবজায় পুরা আনিবে হিন্দুস্তান।
টীকা = হিন্দুস্তান সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের দখলে আসবে।
(৪৮)
বরবাদ করে দেয়া হবে ‘দ্বীন-ঈমানের দুশমন’
অঝোর ধারায় হবে আল্লা’র রহমাত বরিষণ। …
(৫১)
ভারতের মত পশ্চিমাদেরও ঘটিবে বিপর্যয়
তৃতীয় বিশ্ব সমর সেখানে ঘটাইবে মহালয়।
টীকা = বর্তমান সময়ে স্পষ্ট সেই তৃতীয় সমরের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ্যাৎ সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মুসলমাদের বিরুদ্ধে কাফিররা যুদ্ধ করছে তথা জুলুম নির্যাতন করছে। এই জুলুম নির্যাতনই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিয়ে একসময় তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। এখানে বলা হচ্ছে মহালয় বা কেয়ামত শুরু হবে যাতে পশ্চিমারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
(৫২)
এ রণে হবে ‘আলিফ’ এরূপ পয়মাল মিসমার
মুছে যাবে দেশ, ইতিহাসে শুধু নামটি থাকিবে তার।
টীকা = এ যুদ্ধের কারণে আলিফ (আমেরিকা) এরূপ ধ্বংস হবে যে ইতিহাসে শুধু তার নাম থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব থাকবে না। বর্তমানে মুছে যাওয়ার আগাম বার্তা স্বরূপ দেশটিতে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক মন্দা চরমভাবে দেখা যাচ্ছে।
(৫৩)
যত অপরাধ তিল তিল করে জমেছে খাতায় তার
শাস্তি উহার ভুগতেই হবে নাই নাই নিস্তার
কুদরতী হাতে কঠিন দণ্ড দেয়া হবে তাহাদের
ধরা বুকে শির তুলিয়া নাসারা দাড়াবে না কভু ফের।
টীকা = এখানে স্পষ্ট, যিনি এই শাস্তি দিবেন তা হবে কুদরতি হাতে। এই শাস্তির কারণে নাসারা বা খ্রিস্টানরা আর কখনই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

শিক্ষা
১. নিয়ামাতের শুকরিয়া স্বরূপ রোযা রাখা বা কোন ইবাদাত করা নবীদের সুন্নাত। মুহাররম বা আশূরা সেই শুকরিয়ার মাস।
২. মূসা আ. কিংবা যে কোন নবী ইহুদী কিংবা অন্য যে কোন ধর্মালম্বীদের চেয়ে আমাদেরই বেশী আপন।
৩. মুহাররম আমাদেরকে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা এবং অমুসলিমদের অনুকরণকে এড়িয়ে চলার চূড়ান্ত প্রেরণা দেয়। তার প্রমাণ, নবীজী স.-এর (বেঁচে থাকা-সাপেক্ষে) ৯ই মুহাররমে রোযা রাখার বাসনা।
৪. হাদীসে নববী অনুযায়ী মুহাররমকে ইস্তিগফার ও তাওবার মওসূম বলা খুবই যুক্তিযুক্ত। অতএব, যারা নিজেদেরকে আল্লাহর কাছে বিনীত ও ক্ষমারযোগ্য রাখতে চায়, তাদের উচিত এ মাসে আল্লাহর কাছে বেশি-বেশি ক্ষমা চাওয়া এবং নাফরমানি ছেড়ে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া।
৫. কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার আগে থেকেই মুহাররম মাস সম্মানীত ছিল। কারবালার ঘটনা মুহাররমের নতুন সংযোজন। আর ইসলাম তো প্রতিটি কারবালার পরেই জিন্দা হয়ে ওঠে। অতএব, কাক্সিক্ষত গন্তব্য অর্জনে কারবালার ত্যাগ চাই, অর্থহীন কান্না ও শোক চাই না।
৬. শোকপ্রকাশেরও একটি ইসলামসম্মত উপায় রয়েছে; আদর্শকে জবাই করে শোকচর্চার মানে হয় না।
৭. মুহাররমকে কুসংস্কার চর্চার কেন্দ্র বানিয়ে আমলনামাকে গুনাহ দিয়ে ভরপুর করার অপবিত্র আবেগ অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
৮. বিয়ে ও ঘর-সংসার গড়ার ক্ষেত্রে মুহাররমকে অশুভ মনে করার অশুভ প্রবণতা বর্জন করতে হবে।
৯. কাসীদায়ে শাহ নিয়ামাতুল্লাহ’র ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আশা করা যায় কোন এক মুহাররমেই উপমহাদেশে মুশরিক শক্তির পতনের সূচনা ঘটবে। সে কারণে এ মুহাররমকে জিহাদ-জয়ের প্রেরণা-ঘর বলা যেতে পারে। অতএব, বিবেকের দাবি হচ্ছে, অনাগত সেই শুভ-সুন্দর মুহাররমের অপেক্ষায় প্রতিটি মুহাররমকে গনীমত মনে করে জিহাদের জযবা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

শেষ আহ্বান : আসুন, পবিত্র এই আশূরাকে মনগড়া কুসংস্কারে অপবিত্র না করে সুন্নাত ও ইসলামের আদর্শে নিজেদের রাঙিয়ে নেই; একে নিজেদের জন্য পরকালের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করি।

তথ্যসূত্র :
ইন্টারনেট থেকে গৃহীত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *